Thu. Feb 21st, 2019

জ্ঞানী খিজির (আঃ) এবং মুসা (আঃ) এর ঐতিহাসিক সফরের কাহিনি

পোস্ট শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
27 Views

স্মরণ কর সে সময়ের কথা, যখন মূসা (আঃ) তার সঙ্গীকে বলেছিলঃ দুই সমুদ্রের মধ্যস্থলি না পৌঁছে আমি থামবো না, আমি যুগ যুগ ধরে চলতে থাকবো। তারা যখন উভয়ের সংগম স্থলি পৌঁছলো, তারা নিজেদের মাছের কথা ভুলে গেল; ওটা সুরঙ্গের মত পথ করে সমুদ্রে নেমে গেল।

যখন তারা আরো অগ্রসর হলো, মূসা (আঃ) তার সংগীকে বললোঃ আমাদের নাস্তা আন, আমরা তো আমাদের এই সফরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। সে বললোঃ আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, আমরা যখন শিলাখণ্ডে বিশ্রাম করছিলাম তখন আমি মাছের কথা ভুলে গিয়েছিলাম? শয়তানই ওর কথা বলতে আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছিল; মাছটি আশ্চর্যজনকভাবে নিজের পথ করে নেমে গেল সমুদ্রে। মূসা (আঃ) বললো, আমরা তো এই স্থানটির অনুসন্ধান করছিলাম; অতঃপর তারা নিজেদের পদচিহ্ন ধরে ফিরে চললো।

অতঃপর তারা সাক্ষাত পেল আমার দাসেদের মধ্যে একজনের, (খিজির)-এর যাকে আমি আমার নিকট হতে অনুগ্রহ দান করেছিলাম ও যাকে আমি আমার নিকট হতে শিক্ষা দিয়েছিলাম এক বিশেষ জ্ঞান। মূসা (আঃ) তাকে বললোঃ সত্য পথের যে জ্ঞান আপনাকে দান করা হয়েছে তা হতে আমাকে শিক্ষা দিবেন এই শর্তে আমি আপনার অনুসরণ করবো কি? সে বললো, তুমি কিছুতেই আমার সঙ্গে ধৈর্যধারন করে থাকতে পারবে না। যে বিষয় তোমার জ্ঞানায়ত্ত নয়, সে বিষয়ে তুমি ধৈর্যধারণ করবে কেমন করে? মূসা (আঃ) বললোঃ আল্লাহ চাইলে আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন এবং আপনার কোন আদেশ আমি অমান্য করবো না। সে বললোঃ আচ্ছা, তুমি যদি আমার অনুসরণ কর-ই তবে কোন বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করো না, যতক্ষণ না আমি সে সম্বন্ধে তোমাকে কিছু বলি।

অতঃপর তারা যাত্রা শুরু করলো, পরে যখন তারা নৌকায় আরোহণ করলো তখন সে তাতে ছিদ্র করে দিল। মূসা (আঃ) বললোঃ আপনি কি আরোহীদেরকে নিমজ্জিত করে দেবার জন্যে তাতে ছিদ্র করলেন? আপনি তো এক গুরুতর অন্যায় কাজ করলেন। সে বললোঃ আমি কি বলি নাই যে, তুমি আমার সঙ্গে কিছুতেই ধৈর্যধারণ করতে পারবে না? মূসা (আঃ) বললোঃ আমার ভুলের জন্য আমাকে অপরাধী করবেন না ও আমার ব্যাপারে অত্যধীক কঠোরতা অবলম্বন করবেন না।

অতঃপর তারা চরতে লাগলো। চলতে চলতে তাদের সাথে এক বালকের সাক্ষাত হলে সে তাকে হত্যা করলো; তখন মূসা (আঃ) বললোঃ আপনি কি এক নিষ্পাপ জীবন নাশ করলেন হত্যার অপরাধ ছাড়াই? আপনি তো এক গুরুতর অন্যায় কাজ করলেন। সে বললোঃ আমি কি তোমাকে বলি নাই যে, তুমি আমার সাথে কিছুতেই ধৈর্যধারন করতে পারবে না? মূসা (আঃ) বললোঃ এরপর যদি আমি আপনাকে কোন বিষয়ে জিজ্ঞেস করি, তবে আপনি আমাকে সঙ্গে রাখবেন না; আপনার কাছে আমার ওজর-আপত্তি চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে গেছে।

অতঃপর উভয়ে চলতে লাগলো। চলতে চলতে তারা এক জনপদের অধিবাসীদের নিকট পৌঁছে খাদ্য চাইলো; কিন্তু তারা তাদের মেহমানদারী করতে অস্বীকার করলো; অতঃপর সেখানে তারা এক পতনোন্মুখ প্রাচীর দেখতে পেলো এবং সে (খিজির) ওটাকে সুদৃঢ় (উত্তোলন) করে দিল; মূসা (আঃ) বললোঃ আপনি তো ইচ্ছে করলে এর জন্যে পারিশ্রমিক গ্রহণ করতে পারতেন। সে বললোঃ এখানেই তোমার ও আমার মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ হলো; (তবে) যে বিষয়ে তুমি ধৈর্যধারন করতে পার নাই আমি তার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করছি।

নৌকাটির ব্যাপারে (কথা এই যে,) ওটা ছিল কতিপয় দরিদ্র ব্যাক্তির। তারা সমুদ্রে জীবিকা অন্বেষণ করতো; আমি ইচ্ছা করলাম নৌকাটিকে ত্রুটিযুক্ত করতে, কারণ ওদের সম্মুখে ছিল এক রাজা যে বল প্রয়োগে নৌকা সকল ছিনিয়ে নিত। আর কিশোরটির পিতা-মাতা ছিল মু’মিন। আমি আশংকা করলাম যে, সে বিদ্রোহাচরণ ও কুফরীর দ্বারা তাদেরকে বিব্রত করবে। অতঃপর আমি চাইলাম যে, তাদের প্রতিপালক যেন তাদেরকে তার পরিবর্তে (এমন) এক সন্তান দান করেন, যে হবে পবিত্রতায় মহত্তর ও ভক্তি ভালবাসায় ঘনিষ্ঠতর।

আর ঐ প্রাচীরটি-ওটা ছিল নগরবাসী দুই পিতৃহীন কিশোরের, এর নিম্নদেশে আছে তাদের গুপ্তধন এবং তাদের পিতা ছিল সৎকর্মপরায়ন। সুতরাং তোমার প্রতিপালক দয়াপরবশ হয়ে ইচ্ছা করলেন যে, তারা বয়প্রাপ্ত হোক এবং তারা তাদের ধনভাণ্ডার উদ্ধার করুক; আমি নিজের থেকে কিছু করি নাই; তুমি যে বিষয়ে ধৈর্য ধারনে অপারগ হয়েছিলে, এটাই তার ব্যাখ্যা।
সূরা – কাহ্ফ: আয়াতঃ ৬০-৮২

সাঈদ ইবনে যুবাইর (রাঃ) বলেনঃ আমি ইবনে ইব্বাসকে বললাম, নওকুল বিক্কালী বলে থাকে খিযিরের সাথে সাক্ষাতকারী মূসা বনী ইসরাইলের মূসা ছিলেন না। এ কথায় ইবনে আব্বাস (রাঃ) বললেনঃ আল্লাহর শত্রু মিথ্যে কথা বলছে। উবাই ইবনে কা’ব আমাকে (ইবনে আব্বাস) বলেছেন, তিনি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে বলতে শুনেছেনঃ মূসা বনী ইসরাইলের মধ্যে বক্তৃতা করছিলেন। তাঁকে প্রশ্ন করা হলো, মানব জাতীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জানে কে? জবাবে তিনি বললেন, আমি সবচেয়ে বেশি জানি। আল্লাহ্ তাঁর উপর রুষ্ট হলেন। যেহেতু তাঁকে এ জ্ঞান দেয়া হয়নি। আল্লাহ্ তাঁকে অহীর মাধ্যমে বললেনঃ দুই সমুদ্রের সঙ্গমস্থলি আমার এক বান্দা অবস্থান করছে, সে তোমার চেয়ে বেশি জানে। মূসা (আঃ) বললেনঃ হে আমার রব! আমি তাঁর কাছে কেমন করে পৌঁছতে পারি? আল্লাহ্ বললেনঃ একটা মাছ সঙ্গে নাও এবং সেটা থলির মধ্যে রাখো (তারপর রওনা হয়ে যাও)। যেখানে সেটাকে হারিয়ে ফেলবে সেখানেই তাকে পাবে। কাজেই তিনি একটা মাছ নিলেন। সেটা থলিতে রাখলেন, তারপর চলতে লাগলেন।

তাঁর সঙ্গে ইউশা ইবনে নূন নামক এক যুবকও ছিলেন। তাঁরা সমুদ্র কিনারে একটি পাথরের কাছে পৌঁছে গেলেন এবং তার উপর মাথা রেখে দু’জনে ঘুমিয়ে পড়লেন। এ সময় মাছটি থলির মধ্যে লাফিয়ে উঠলো। থলি থেকে বের হয়ে সেটা সমুদ্রের পানিতে পড়ে গেল। আর যেখান দিয়ে মাছটি চলে গিয়েছিল, আল্লাহ্ সেখানে সমুদ্রের পানির প্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছিলেন এবং সেখানে একটি নালা বানিয়ে দিয়েছিলেন। ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর তাঁর সাথী তাঁকে মাছটির কথা জানাতে ভুলে গেলেন। সেই দিনের অবশিষ্ট সময় ও সেই রাত তাঁরা চললেন। পরের দিন মূসা (আঃ) বললেনঃ “এ সফরে বেশ ক্লান্তি অনুভূত হচ্ছে, এখন আমাদের খাবার আনো। (সূরাঃ কাহাফ-৬২)

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ আসলে আল্লাহ্ যে স্থানে সাক্ষাতের কথা বলেছিলেন (অর্থাৎ যেখানে মাছটি পানিতে পড়ে গিয়েছিল) সে স্থান ছেড়ে যাবার পর থেকেই মূসা (আঃ) ক্লান্তি অনুভব করছিলেন। তখন তাঁর খাদেম তাঁকে বললেন, “আপনার মনে আছে যে পাথরটার পাশে আমরা বিশ্রাম করেছিলাম, সেখানেই মাছটি অদ্ভূতভাবে সমুদ্রে নেমে গিয়েছিল। কিন্তু আমি মাছটির কথা বলতে ভুলে গিয়েছিলাম। আসলে শয়তান আমাকে এ কথা ভুলিয়ে দিয়েছে। তাই আমি আপনাকে তা জানাতে পারিনি।” (সূরাঃ কাহাফ – ৬৩) রাসুলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, মাছটি সমুদ্রে চলে গিয়েছিল তার পথ বানিয়ে। মূসা (আঃ) ও তাঁর খাদেমকে তা অবাক করে দিয়েছিল। মূসা (আঃ) বললেনঃ “এটিই তো আমরা খুঁজছিলাম।” (সূরাঃ কাহাফ-৬৪) কাজেই তাঁরা নিজেদের পদচিহ্ন অনুসরণ করতে করতে সেই জায়গায় এসে পড়লেন।

রাসুলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, তারা দু’জন নিজেদের পদরেখা অনুসরণ করতে করতে আগের পাথরটার কাছে ফিরে আসলেন। সেখানে এক ব্যাক্তিকে কাপড় জড়িয়ে বসে থাকতে দেখলেন। মূসা (আঃ) তাঁকে সালাম দিলেন। জবাবে খিজির তাঁকে বললেন, তোমাদের এ দেশে সালামের প্রচলন হলো কেমন করে? মূসা (আঃ) বললেন, আমি মূসা। (খিজির জিজ্ঞেস করলেনঃ) বনী ইসরাইলের (নবী) মূসা? মূসা বললেনঃ হ্যাঁ, আমি বনী ইসরাইলের নবী মূসা। আমি এসেছি এ জন্য যে, আপনি আমাকে সেই জ্ঞানের শিক্ষা দিবেন যা আপনাকে শিখানো হয়েছে। তিনি (খিজির) জবাব দিলেন, তুমি আমার সাথে সবর করতে পারবে না (সূরাঃ কাহ্ফ-৬৭) হে মূসা! আল্লাহ্ তোমাকে জ্ঞান দান করেছেনঃ এমন জ্ঞান, যার (সবটুকুর) সন্ধান তুমি পাওনি। আল্লাহ্ আমাকেও জ্ঞান দান করেছেন, এমন জ্ঞান যার (সবটুকুর) সন্ধান আমিও পাইনি। মূসা (আঃ) বললেন, “ইনশা আল্লাহ্ আপনি আমাকে সবরকারী পাবেন এবং আমি আপনার কোন হুকুমের বরখেলাফ করবো না।” (সূরাঃ কাহ্ফ-৬৯) খিজির তাঁকে বললেনঃ “যদি তুমি আমার সাথে চলতে চাও তাহলে আমাকে কোন কথা জিজ্ঞেস করো না যতক্ষণ না আমি নিজেই তা তোমাকে জানাই।” (সূরাঃ কাহ্ফ-৭০) কাজেই তারা দু’জন রওনা হয়ে গেলেন।

তাঁরা সমূদ্র কিনার ধরে চলতে লাগলেন। তাঁরা একটি নৌকা দেখতে পেলেন। তাদেরকে নৌকায় করে নিয়ে যাবার ব্যাপারে নৌকার মাঝিদের সাথে আলাপ করলেন। তারা খিজিরকে চিনতে পারল। তাই তাদেরকে বসিয়ে গন্তব্যস্থলি নিয়ে গেলো কিন্তু এর বিনিময়ে কোন পারিশ্রমিক নিল না। যখন তাঁরা দু’জন নৌকায় চড়লেন, খিজির কুড়াল দিয়ে নৌকার একটা তক্তা উড়িয়ে ফেললেন। মূসা (আঃ) তাঁকে বললেন, এরা তো বিনা ভাড়ায় আমাদের বহন করলো। অথচ আপনি এদের নৌকাটির ক্ষতি করলেন। খিজির বললেনঃ আমি কি আগেই তোমাকে বলি নাই যে আমার সাথে চলার ব্যাপারে তুমি কোন ক্ষেত্রে সবর করতে পারবে না? মূসা (আঃ) বললেন, আমি যেটা ভুলে গিয়েছিলাম সেটার ব্যাপারে আমার কাছে কৈফিয়ত তলব করবেন না, আর আমার ব্যাপারে অত্যধীক কড়াকড়ি করবেন না।

রাসুলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেনঃ মূসা (আঃ) প্রথমবার ভূলে গিয়েই এটা করেছিলেন। এরপর আসলো একটা চড়ুই পাখি। পাখিটা বসলো নৌকার এক কিনারে। ঠোঁট দিয়ে সমুদ্র থেকে এক বিন্দু পানি পান করলো। এ দৃশ্য দেখে খিজির মূসা (আঃ) কে বললেনঃ এই চড়ুইটা সমূদ্র থেকে যতটুকু পানি খসালো, আমার ও তোমার জ্ঞান আল্লাহর জ্ঞানের তুলনায় এতটুকুই। এরপর তাঁরা নৌকা ত্যাগ করে সমুদ্রের তীর ধরে হাঁটতে লাগলেন। পথে খিজির দেখলেন একটি ছোট ছেলে অন্য ছেলেদের সাথে খেলা করছে। তিনি হাত দিয়ে ছেলেটিকে ধরলেন। দেহ থেকে তার মাথাটা আলাদা করে দিলেন। তাকে হত্যা করলেন। মূসা (আঃ) তাঁকে বললেন, আপনি একটা নিষ্পাপ শিশুকে হত্যা করলেন, অথচ সে কাউকে হত্যা করেনি? আপনি তো একটা অন্যায় কাজ করে ফেলেছেন। তিনি তাঁকে বললেন, আমি কি আগেই বলিনি যে আমার সাথে তুমি ধৈর্য ধরে চলতে পারবে না? মূসা (আঃ) বললেন, এরপর যদি আমি আপনাকে আর কোন প্রশ্ন করি তাহলে আপনি আমাকে আর সংঙ্গে রাখবেন না। পরে তাঁরা সামনের দিকে চলতে লাগলেন।

চলতে চলতে তাঁরা একটি জনবসতিতে গিয়ে পৌঁছলেন। সেখানকার লোকদের কাছে খাবার চাইলেন। তারা দু’জনের মেহমানদারী করতে অস্বীকার করলো। সেখানে তাঁরা একটা দেয়াল দেখতে পেলেন। দেয়ালটি পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। খিজির দাঁড়ালেন। নিজের হাতে দেয়ালটি গেঁথে সোজা করে দিলেন। মূসা (আঃ) বললেনঃ এই বসতির লোকদের কাছে আমরা খাবার চাইলাম, তারা আমাদের মেহমানদারী করতে অস্বীকার করলো। আপনি চাইলে এ কাজের মজুরী নিতে পারতেন।

খিজির বললেনঃ বাস্, এখান থেকে তোমার ও আমার মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেলো। এখন আমি তোমাকে সেই বিষয়গুলোর তাৎপর্য বুঝিয়ে দেব যেগুলোর ব্যাপারে তুমি ধৈর্য ধারন করতে পারনি। সেই নৌকাটির ব্যাপার ছিল এই যে, সেটির মালিক ছিল কয়েকটা গরীব লোক। সাগরে গতর খেটে তারা জীবন ধারন করতো। আমি নৌকাটিকে দাগী করে দিতে চাইলাম। কারণ হচ্ছে, সামনে এমন এক বাদশাহর এলাকা রয়েছে যে প্রত্যেকটা নৌকা জোর করে কেড়ে নেয়। তারপর সেই ছেলেটির কথা। তার বাপ-মা ছিল মুমিন। আইম আশংকা করলাম, ছেলেটি পরবর্তীকালে তার নাফরমানী ও বিদ্রোহাত্মক আচড়নের মাধ্যমে তাদেরকে কষ্ট দেবে। তাই আমি চাইলাম, আল্লাহ্ তার পরিবর্তে তাদেরকে যেন এমন একটি সন্তান দেন, যে চরিত্রের দিক দিয়ে তার চেয়ে ভালো হবে এবং মানবিক স্নেহ ও দয়ার ক্ষেত্রেও তার চেয়ে উন্নত হবে। আর এ দেয়ালটার ব্যাপার এই যে, এটা হচ্ছে দুটো এতিম ছেলের যারা এই শহরে বাস করে। এই দেয়ালের নিচে তাদের জন্য সম্পদ লুকানো রয়েছে। তাদের পিতা ছিলেন নেককার ব্যাক্তি। তাই তোমার রব চাইলেন, ছেলে দু’টি বড় হয়ে তাদের জন্য রাখা সম্পদ লাভ করবে। তোমার রবের মেহেরবানীর কারনে এটা করা হয়েছে। আমি নিজে কিছু করিনি। এই হচ্ছে সেই সব বিষয়ের তাৎপর্য , যে জন্য তুমি ধৈর্য ধারণ করতে পারনি।

রাসুলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেন, ভালো হতো যদি মূসা (আঃ) আরো একটু সবর করতেন। তাহলে আল্লাহ্ তাদের আরো কিছু কথা আমাদের জানাতেন।
বুখারী: হাদিস নং-৪৭২৫


আরও পড়ুনঃ

যেকোন ইসলামীক লেখা পাঠাতে ক্লিক করুন: m.me/dailyislamshikkha

আরও পড়ুন

আপনার মতামত জানান