Thu. Apr 18th, 2019

নিউজিল্যান্ডের মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা কিয়ামতের নিদর্শন? | যে কারনে সারা বিশ্বে মুসলমানরা হামলার শিকার হচ্ছে

পোস্ট শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
81 Views

কিয়ামতের নিদর্শনগুলোর মধ্যে রয়েছে দ্বীনি ইলমের ঘাটতি, নগ্নতা ও উলঙ্গপনা, ফিতনা-ফাসাদের বিস্তার, অশ্লীলতার সয়লাব, হত্যাকাণ্ড, ভূমিকম্পের আধিক্য।

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে গত ১৫ই মার্চ শুক্রবার আল নূর মসজিদ ও লিনউড মসজিদে হামলা চালানো হয়। হামলায় নারী ও শিশুসহ অর্ধশতাধিক মুসল্লী নিহত হয়। এর আগে মিশরে একটি মসজিদে হামলায় প্রায় ৩০০ জন মুসল্লী নিহত হয়েছিলো।
নিউজিল্যান্ডে ক্রাইস্টচার্চে স্থানীয় সময় দেড়টার দিকে মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায়রত মুসল্লিদের ওপর স্বয়ংক্রিয় বন্দুক নিয়ে হামলা চালায় এক ইহুদী জঙ্গি। হামলার ঘটনাটি ফেসবুকে লাইভও করেন অস্ট্রেলিয়া থেকে আসা ২৮ বছর বয়সী ওই শ্বেতাঙ্গ হামলাকারী। এর আগে ২০১৭ সালে শুক্রবার জুমার নামাজের পর পরই মিসরের সিনাই উপত্যকার একটি মসজিদে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের হামলায় নিহত হয়েছিলেন প্রায় ৩০০ জন মুসল্লী। জুমার নামাজ শেষে মুসল্লিদের উপর এ হামলা চালায় জঙ্গিরা৷ চারটি গাড়িতে চড়ে এসে প্রথমে বোমা ছোঁড়া হয়, পরে চালানো হয় গুলি৷
এই দুই ঘটনায় নিহত ব্যাক্তিরা জানেও না কি ছিলো তাদের অপরাধ। কেনইবা পৃথিবীর সবচাইতে নিরাপদ স্থান মসজিদে প্রার্থনারত অবস্থায় তারা হত্যার স্বীকার হলেন। এমনকি হত্যাকারী বলতে পারবে না কেন সে খুন করছে। এইসব হামলা হচ্ছে কিয়ামতের আলামত।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, ‘কিয়ামতের আগে অজ্ঞতা বেড়ে যাবে, ইলম উঠিয়ে নেওয়া হবে, মানুষের হৃদয় কঠিন হয়ে যাবে এবং মারামারি, হত্যাযজ্ঞ বেড়ে যাবে’। [সহিহ বুখারি]
.
ইবনে মাজাহ এর একটা হাদীসে এসেছে, ‘আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা)’র কাছে একজন বিশ্বাসীকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা এই দুনিয়ায় যা কিছু রয়েছে তা সকল কিছুর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ’।
.
আব্দুল্লাহ বিন উমার (রা.) বলেন, একদিন আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ কে কাবা ঘর তাওয়াফ করতে দেখেছি এবং তিনি ﷺ বলছিলেন, ‘হে কাবা তুমি কতই না মধুর এবং কতই না মধুর তোমার সুবাস। তুমি কতই না মর্যাদাপূর্ণ এবং কতই না মর্যাদাপূর্ণ তোমার পবিত্রতা, সেই সত্তার শপথ যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ, নিশ্চয়ই একজন বিশ্বাসীর রক্তের মর্যাদা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কাছে তুমি কাবার মর্যাদার চাইতেও অধিক মর্যাদাপূর্ণ’। [ইবনে মাজাহ]
.
আল্লাহ তায়ালার কাছে মুসলিমের রক্তের অনেক মূল্য। ইনশাআল্লাহ নিহত সকল ভাইরা শহীদ হিসেবে কবুল হবেন৷ জান্নাতে তারা সবাই সম্মানিত হবেন। তারা মরে গিয়েই হয়ত বেচে গেলেন।
.
কিন্তু কেন আজ আমাদের — এই দশা?
.
উম্মাহ এর রক্তে দুনিয়া ভেসে গেলেও, জিহাদ শব্দটা শুনলে যেন স্বয়ং মুসলিমদেরও নাক সিটকানো স্বভাব আছে যতক্ষন না পর্যন্ত নিজে ভুক্তভোগী হয় ।
.
আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুল ﷺ বলেছেন, ‘শীঘ্রই মানুষ তোমাদেরকে আক্রমন করার জন্য আহবান করতে থাকবে, যেভাবে মানুষ তাদের সাথে খাবার খাওয়ার জন্য একে-অন্যকে আহবান করে’। জিজ্ঞেস করা হলো, ‘তখন কি আমরা সংখ্যায় কম হবো?’ তিনি বললেন, ‘না, বরং তোমরা সংখ্যায় হবে অগণিত কিন্তু তোমরা সমুদ্রের ফেনার মতো হবে, যাকে সহজেই সামুদ্রিক স্রোত বয়ে নিয়ে যায় এবং আল্লাহ তোমাদের শত্রুর অন্তর থেকে তোমাদের ভয় দূর করে দিবেন এবং তোমাদের অন্তরে আল-ওয়াহ্হান ঢুকিয়ে দিবেন’। জিজ্ঞেস করা হলো, ‘হে আল্লাহর রাসুল (সা.),আল ওয়াহ্হান কি?’ তিনি বললেন, ‘দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা এবং ক্বিতালকে (সশস্র যুদ্ধ) অপছন্দ করা’। [মুসনাদে আহমদ]
.

স্বপ্ন দেখি ইন শা আল্লাহ, খিলাফত প্রতিষ্ঠা যাতে সমগ্র মুসলিম ভূখণ্ডগুলো সাম্রাজ্যবাদী কাফির মুশরিকদের হাত থেকে মুক্ত করা, যাদের ইজ্জত রক্ষার্থে খলীফা সেনাবাহিনী প্রেরণ করবেন মুসলিম ভূখণ্ডে অগ্রভাগে মুসলিম শক্তিশালী দেশগুলো নিয়ে এবং পশ্চাৎভাগ থাকবে বাংলাদেশে। সমগ্র বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের চলমান অত্যাচার নির্যাতনকে চিরতরে বন্ধ করে দিবে।
.
সবশেষে, সমগ্র মানবজাতিকে সৃষ্টির দাসত্ব থেকে মুক্ত করে তার সত্যিকার রবের ক্ষমা ও অনুগ্রহের দিকে আহবান জানাবে।
.
নিরপরাধ মানুষগুলোকে হত্যার শাস্তি হিসেবে কেবল তাকেও হত্যা করাই উপযুক্ত , কিসাসের বিনিময় শুধুই কিসাস। ইনশাআল্লাহ আমাদের অন্য ভাইরা এই ভাইদের হত্যার নায্য বদলা ও প্রতিশোধ নিয়ে নিবে।
.
কিন্তু তখন মিডিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি কীরুপ হয় তা শোনার অপেক্ষায় থাকলাম। আমরা অবশ্য ধারণা করতে পারি।
.
একটা ঘটনা শুনেছিলাম,
.
পশ্চিমা এক দেশে একবার একটি কুকুর একটি বাচ্চাকে আক্রমন করে। চারিদিকে লোকজন দাঁড়িয়ে দেখছিলো। কেউ এগিয়ে আসছিলো না তাকে সাহায্য করতে। একজন মানুষ সাহস করে এগিয়ে গিয়ে কুকুরটিকে মেরে বাচ্চাটিকে বাঁচায়। চারিদিকে খবর ছড়িয়ে পড়ে তার এই সাহসি ভুমিকার। লোকজন তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। সাংবাদিকরা এলো তার সাক্ষাতকার নিতে।
.
সাংবাদিকঃ নিশ্চয় আপনি আমেরিকার কেউ ? আমরা কালই আপনার সাহসিকতা আর মহত্ত্বের কথা পুরো বিশ্বকে জানাবো। আপনার full আইডেন্টিটি বলেন। আপনার নাম কী?
.
সে বললোঃ না,আমি একজন সৌদি মুসলিম। আমার নাম মুহাম্মাদ।
.
বিস্তারিত সাক্ষাতকার সবাই নিয়ে গেলো ঠিকই। কিন্তু পরের দিন পত্রিকায় এলো — ‘মুসলমান সন্ত্রাসীর হাতে নিরীহ কুকুর নিহত’।
.
আজ মিডিয়ার খুনীকে মানসিক রোগী বলার পায়তারা কিংবা ইসলাম বিদ্বেষীদের এই হামলার জন্য মুসলিম দেরই দায় দেওয়ার ব্যাপার গুলো ভাবায় না আর।এ আর নতুন কী? এগুলো প্রথম থেকেই হয়ে আসছে। তাই সয়ে গেছে।
.
সময় হয়ত শেষের দিকে। সব কিছুই আল্লাহ তায়ালার সিস্টেমের একেকটা অংশ। তাঁর জ্ঞানের বাইরে কিছুই ঘটছেনা। তাই সব অবস্থাতেই ভরসা রাখা জরুরী।৷
.
আর আমাদের অবস্থা শোচনীয় হবার জন্য আমরাও সমান দায়ী নই কি? সামান্য ইখতেলাফি মাস’আলা ই যেখানে উম্মাহর মাঝে এত বিভেদ তৈরী করে, সেখানে জিহাদের মত ব্যাপারে কীভাবে আমরা আল্লাহ তায়ালার সাহায্য আশা করি!


 

RelatedPost

আপনার মতামত জানান