Thu. Apr 18th, 2019

পুরুষের জন্য রেশমী কাপড় পরিধান কেন হারাম? আখিরাতে করুণ পরিণতি

পোস্ট শেয়ার করুন
  • 21
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    21
    Shares
148 Views

পৃথিবীর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহাবিজ্ঞানী রাহমাতুল্লিল আ’লামীন হযরত মুহাম্মাদূুর রাসূলুল্লাহি সাঃ পুরুষদের জন্য রেশমী কাপড় পরিধান করাকে হারাম ঘোষণা করে কঠোর ভাষায় তা বর্জন করতে বলেছেন।

বোখারী শরীফঃ৫৮৩৪-৫৮৩৫
মুসলিম শরীফঃ৫২৩৬-৫২৩৭.
আবু দাউদ শরীফঃ৪০৫৭.

তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত যুবাইর ও আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে তাদের গায়ে চুলকানি হবার দরুন রেশমী কাপড় পরার অনুমতি দিয়েছিলেন।

বোখারী ৫ ৮৩৯,
মুসলিম ২০৭৬,
তিরমিযি ১৭২২,
নাসায়ি ৫৩১০, ৫৩১১,
আবু দাউদ ৪০৫৬, ইবন মাজাহ ৩৫৯২,
আহমদ ১১৮২১, ১১৮৭৯, ১২৪৫২, ১২৫৮০, ১২৮৩৬, ১৩২২৮, ১৩২৭০, ১৩৪৭৩]

আধুনিক বিজ্ঞান এ বিষয়ে রিসার্চ চালিয়ে মানবজীবনে এর বিশাল তাৎপর্যপুর্ণ ও কল্যাণকর প্রভাবগুলো আবিষ্কার করেছে।

পুরুষ মানুষকে রেশমী কাপড়ের পোশাক পরিধান করতে ধর্মীয়ভাবে কঠোরভাষায় নিষেধ করা হয়েছে।

কেনন,রেশমী কাপড় পুরুষদের চামড়ার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তাই,পুরুষলোক রেশমী কাপড় পরিধান করার ফলে,

  • (১) সারা শরীরে তীব্র তাপ প্রবাহের সৃষ্টি হয়।
  • (২) মারাত্মক অস্থিরতা রোগ সৃষ্টি হয়।
  • (৩.) রাগ বা ক্রোধের পরিমান বেড়ে যায়।
  • (৪) শারীরিক ও মানসিক অশান্তি বেড়ে যায়।

এ বিষয়ে রিয়াযুস সালেহিন হাদিস শরিফ থেকে কয়েকটি হাদিস

৮০৪. উমার ইবনুল খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ তোমরা রেশমী বস্ত্র পরিধান করো না। কারণ দুনিয়াতে যে রেশমী বস্ত্র পরল, আখিরাতে তা পরা থেকে সে বঞ্চিত হল। (বুখারী, মুসলিম)

৮০৫. উমার ইবনুল খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) কে বলতে শুনেছিঃ (দুনিয়াতে) রেশমী বস্ত্র সেই পরে থাকে যার জন্য (আখিরাতে) কোন অংশ নেই।

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন। ইমাম বুখারীর এক বর্ণনায় রয়েছেঃ যার আখিরাতে কোন অংশ নেই।৯৮

*৯৮. এমন পোশাক পরিধান করা উচিত নয়, যার প্রতি মানুষ অংগুলি সংকেত করে বা চোখ তুলে চায়। এ ধরনের পোশাকের উদ্দেশ্য নিজের অহংকার ও বাহাদুরী প্রকাশ করা এবং নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিপন্ন করা ছাড়া আর কিছু হয় না।

৮০৬. আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ দুনিয়াতে যে ব্যক্তি রেশমী বস্ত্র পরিধান করলো, আখিরাতে সে তা পরতে পারবে না। (বুখারী, মুসলিম)

৮০৭. আলী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (সা) কে দেখেছি, তিনি একটি রেশম বস্ত্র নিয়ে তা তাঁর ডান হাতে রাখলেন এবং এক টুকরা সোনা নিয়ে তা তাঁর বাম হাতে রাখলেন, তারপর বলেনঃ এ দু’টো জিনিস আমার উম্মাতের পুরুষের জন্য হারাম।

ইমাম আবু দাঊদ উত্তম সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

৮০৮. আবু মূসা আশ’আরী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ রেশমের পোশাক ও সোনার জিনিস আমার উম্মাতের পুরুষের জন্য হারাম করা হয়েছে এবং তাদের নারীদের জন্য হালাল করা হয়েছে।

ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, এটি হাসান ও সহীহ হাদীস।

৮০৯. হুযাইফা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সা) আমাদেরকে সোনা ও রূপার পাত্রে পানাহার করতে এবং রেশমী ও রেশম-সূতী মিশেল পোশাক পরিধান করতে ও তাতে বসতে নিষেধ করেছেন। (বুখারী)


লেখকঃ Md Khalil Miah

সহকারী শিক্ষক,
৩৫নং মোবারকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,
ওসমানী নগর, সিলেট।

তথ্যসুত্রঃ
সুন্নতে রাছুল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান
১ম খণ্ড,পৃষ্ঠা :১৩৬..
মূল:ডাঃমুহাম্মদ তারেক মাহমুদ
এম.বি.বি.এস ফার্স্টক্লাশ ফার্স্ট, পাকিস্তান।
বাংলা অনুবাদ সম্পাদনা:
শায়খুল হাদিছ
হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ হাবীবুর রহমান।
মাদ্রাসায়ে দারুর রাশাদ,
মিরপুর- পল্লবী,ঢাকা।


যেকোন ইসলামীক লেখা পাঠাতে ক্লিক করুন: m.me/dailyislamshikkha

RelatedPost

আপনার মতামত জানান