Thu. Feb 21st, 2019

থার্টি ফার্স্ট নাইট এবং ইসলাম

পোস্ট শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
26 Views

ডিসেম্বর মাসের একত্রিশ তারিখের দিবাগত রাতকে থার্টি ফাস্ট নাইট বলা হয়। বর্ষবরণের নামে এ রাতকে ঘিরে পশ্চিমাদের যে কত আয়োজন, তার আর কোন শেষ নেই। অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় হল আজ মুসলমানও এ আয়োজনে পিছিয়ে নেই। আতশবাজি,পটকাবাজি, নাচ-গান,বেহায়াপনা,অশ্লীলতা,মাদক সেবন,নারীর শ্লীলতাহানি,যেনা-ব্যভিচারসহ কত কিছুই না হচ্ছে এ রাতে।

হাদিসে এসেছে, নবী করিম সাঃ বলেছেন, যে ব্যক্তি যে জাতির সাথে সাদৃশ্যতা অবলম্বন করবে (কিয়ামতের দিন) সে তাদের মধ্যে গণ্য হবে। সুনানে আবু দাউদ,হাদীস নং ৪০৩৩।

কাজেই কেউ ইয়াহুদীদের সাথে সাদৃশ্যতা অবলম্বন করলে তার হাশর হবে ইয়াহুদীদের সাথে। কেউ নাসারাদের সাথে সামঞ্জস্যতা অবলম্বন করলে তার হাশর হবে নাসারাদের সাথে। তাছাড়া মুমিনদের জীবন তো হবে মুহাসাবার (কৃতকর্মের হিসাব গ্রহনের) জীবন। একটি বছর অতিক্রন্ত হওয়ার পর হিসাবের তাড়না তাকে বিচলিত করে রাখবে। হায় ! আমার মূল্যবান জীবন থেকে একটি বছর চলে গেল। আমি তো আল্লাহ তাআলার জন্য কিছুই করতে পারলাম না। আখেরাতের তেমন কোন সামানা জোগাড় করতে পারলাম না। তা না করে জঘন্যতম গোনাহসমূহের দ্বারা আনন্দ উল্লাসে মত্ত হওয়া কোন মুমিনের কাজ হতে পারে না।

সাহাবায়ে কেরাম আরবী তারিখের হিসাব রাখতেন। কেননা অধিকংশ ইবাদত – বন্দেগী চন্দ্র মাসের উপর নির্ভরশীল। আর এর হিসাব রাখা ফরজে কিফায়া। অথচ ফরজে কিফায়া হওয়া সত্যেও সাহাবায়ে কেরাম হিজরী সনের শুরুতে তথা পহেলা মুহাররমে কোন আড়ম্বরতা গ্রহন করতেন না। এর সামান্যতম নযীরও কেউ পেশ করতে কখনও সক্ষম হবে না। হে আমার প্রিয় ভাই বোনেরা ! আস না ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে। তুমি তো এমন নবীর উম্মত যার হাত কোন দিন কোন বেগানা মহিলাকে স্পর্শ করেনি। (সহীহ বুখারী,হাদীস নং ২৭১৩)।

তুমি তো এমন নবীর উম্মত যিনি সৌন্দর্য প্রকাশ করে নারীদেরকে বাইরে যেতে নিষেধ করেছেন। আস না! আমরা নবীর আদর্শে আদর্শিত হই। জাতিকে একটা সুষ্ঠু সুন্দর সমাজ উপহার দিই।

এ রাতে যা যা করা হয় প্রত্যেকটিই অত্যন্ত জঘন্যতম গুনাহ।

যেমন –

  • (১) আতশবাজি,পটকাবাজি ,আলোকসজ্জা ইত্যাদি। এগুলো এক দিক থেকে যেমন মুশরিকদের কাজ তেমনি ভাবে অন্য ভাইদের জন্য কষ্টের কারণও বটে। এর দ্বারা অন্যদের ঘুমের ব্যঘাত ঘটে। বিশেষ করে বৃদ্ধ,অসুস্থ ও বাচ্চাদের অনেক কষ্ট হয়। যা স্পষ্ট হারাম। (সহীহ বুখারী,হাদীস নং-৯)।
  • (২) নারী পুরুষের অবাধ বিচরণ। এ থেকে আল্লাহ তাআলা কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন।–সূরা আহযাব, ৩৩।
  • (৩) ব্যাপক আকারে নাচ-গান ও বাদ্য বাজানো হয়। এক তো এগুলো এমনিতেই হারাম উপরন্তু দ্বীনদার লোককে শুনতে বাধ্য করা হয় এবং অন্যকে কষ্ট দেওয়া হয়।(সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৭১)।
  • (৪) এ রাতে মদ পান সহ অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের মাদক সেবন করা হয়। যা স্পষ্ট হারাম। (সূরা মায়েদাহ, ৯০)
  • (৫) দ্বীর্ঘ রাত পর্যন্ত আনন্দ উল্লাসে মেতে থাকার কারনে ফজরের নামায কাযা হয়ে যায়।
  • (৬) অনেক ক্ষেত্রে যুবক যুবতী যেনা ব্যভিচারে জড়িয়ে পড়ে।
  • (৭) মেয়েরা বিভিন্ন অশালীন ও অশ্লীল কাপড় চোপড় পরিধান করে। যার কারনে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতেই থাকে।

এ ছাড়া আরো কত কিছুই না ঘটে থাকে এ রাতে। যার সবগুলো ইসলামে নিকৃষ্ট ও গুনাহের কাজ। সারকথা ,কোন মুমিনের জন্য এ সকল কাজ কখনই জায়েয হতে পারে না। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে থার্টিফার্স্ট নাইটে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার তাওফীক দান করুন। আমিন, বিরাহমাতিকা ইয়া আর হামার রাহিমীন।

লেখাঃ Md Khalil Miah


 

This image has an empty alt attribute; its file name is Capture.png

 

আরও পড়ুন

আপনার মতামত জানান